| বঙ্গাব্দ

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: হাইকোর্টে ক্ষমা চাইলেন ফাঁসির আসামি সোহেল | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-06-2026 ইং
  • 8663 বার পঠিত
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: হাইকোর্টে ক্ষমা চাইলেন ফাঁসির আসামি সোহেল | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: আসামি সোহেল

ফাঁসির আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তি ও ক্ষমা প্রার্থনা, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চাইলেন স্ত্রী স্বপ্না

আদালত প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ল froid নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার প্রধান আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা নিজের অপরাধ সম্পূর্ণ স্বীকার করে মহামান্য আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাইকোর্টে পাঠানো এক জেল আপিলের আবেদনে নিজের এই অকপট স্বীকারোক্তি দেন তিনি।

আজ রবিবার (১৪ জুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আসামিদের এই জেল আপিল শুনানির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।

মাদকাসক্তি ও অনটনের দোহাই দিয়ে প্রাণভিক্ষা

হাইকোর্টে দায়ের করা জেল আপিলের লিখিত জবানবন্দিতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা দাবি করেন—তীব্র আর্থিক অনটন, পারিবারিক অশান্তি এবং অতিরিক্ত মাদকাসক্ত থাকার কারণেই অবচেতন মনে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে গেছে। নিজের একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের চরম বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে এই জঘন্য অপরাধের জন্য আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তিনি।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন:

“আমি আর্থিকভাবে অসচ্ছল। আমি অটোরিকশা গ্যারেজে মিস্ত্রির কাজ করতাম। আমি নিয়মিত ইয়াবা বা মাদকে আসক্ত ছিলাম। মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে পরিবারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। ইতঃপূর্বে আমি কোনো অপরাধে জড়িত ছিলাম না। অত্র মামলার ভিকটিমের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হয়েছে। আমার আর্থিক অভাব, পারিবারিক অশান্তি, মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত, অবচেতনভাবে হয়েছে। কীভাবে যে ঘটনাটি ঘটেছে আমি বুঝতে পারি নাই। আমার একটি মাত্র ছেলের পড়াশোনার খরচ ও পরিবারের ভরণ-পোষণ করার মতো কেউ নাই। আমি ভুল করেছি, আমি ক্ষমা চাই।”

তবে স্বামী সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও, এই মামলার অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন। জেল আপিলে তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল না এবং তিনি আদালত থেকে খালাস চেয়ে আবেদন করেছেন। গত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাইকোর্টে এই যৌথ জেল আপিল করেছিলেন এই দম্পতি।

মাত্র ২০ দিনে মামলার সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন

গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিনই (২০ মে) নিহতের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধিতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানো এবং পরবর্তীতে লাশ গুমে পারস্পরিক সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।

মামলাটির তদন্ত ও বিচারিক ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়:

  • ২৪ মে (ঘটনার ৪ দিন পর): তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ১৮ জনকে সাক্ষী করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন।

  • ১ জুন: সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

  • ২ জুন: মাত্র ১ দিনেই ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন করা হয়।

  • ৩ জুন: আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

  • ৪ জুন: রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

  • ৭ জুন: দ্রুততম সময়ের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নিম্ন আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের (ফাঁসি) রায় দেন।

রক্তাক্ত ঘরের মেঝেতে মস্তকবিহীন দেহ, বালতিতে মাথা

মামলার এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পল্লবীর বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল ৮ বছরের শিশু রামিসা। এ সময় তাকে কৌশলে ফুসলিয়ে নিজেদের ফ্ল্যাটে ডেকে নেন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসা স্কুলে না পৌঁছানোয় তার মা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে একই ভবনের বাসিন্দা সোহেল রানার বন্ধ দরজার সামনে নিজের মেয়ের জুতো দেখতে পান তিনি।

অনেক ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন জড়ো হয়ে জোরপূর্বক দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে গিয়ে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং একটি বড় প্লাস্টিকের বালতির ভেতর তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান সবাই। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত জনতা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে পল্লবী থানা পুলিশ এসে ঘটনস্থল থেকে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে পালিয়ে যাওয়া মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency